সাত হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। এ পদক্ষেপে চাকরি হারাবে সংস্থাটির মোট কর্মীর ১২ শতাংশ। আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন তাদের বিপুলসংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, কর্মচারী ইউনিয়ন, আইনজীবী ও বিরোধীদলীয় ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতারা। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে গ্রাহক পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা তাদের। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন তার পদক্ষেপে কোনোভাবেই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাগুলো বিঘ্নিত হবে না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন কর্মীদের জানিয়েছে, সংস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য যারা সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করে না তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কর্মরত কর্মী সংখ্যা ৫৭ হাজার থেকে ৫০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে সব কর্মীর জন্য প্রাথমিক অবসর এবং স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণে প্রণোদনা দিচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জোরপূর্বক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণাও আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। চলতি সপ্তাহে ভিন্ন একটি বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ১৪০ জন কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠাতে যাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন।
এমন এক সময়ে মার্কিন প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যখন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণকারী আমেরিকানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০ শতকের মাঝামাঝি জন্মানো ‘বেবি বুম’ প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষ অবসর গ্রহণের বয়সে পৌঁছেছে। ফলে মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন থেকে এ মুহূর্তে ৭৩ মিলিয়ন বা ৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ মাসিক বেতন বা ভাতা পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি জেনারেল কমিটির মুখপাত্র রিচ কৌচার বলেছেন, ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমসংখ্যক কর্মী দিয়ে এ সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক সুবিধাভোগীকে সেবা দিচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপে মার্কিন নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা পরিষেবা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা তার।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, সংস্থাটি তাদের ১০টি আঞ্চলিক অফিসকে চারটিতে একীভূত করবে। সেই সঙ্গে ডেপুটি প্রশাসন স্তরের সংস্থার সংখ্যাও কমিয়ে আনবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল সরকার থেকে কর্মী কমানোর ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছে আমেরিকার অনেক কর্মী। চলতি সপ্তাহে নতুন এক চিঠিতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে কর্মী ‘উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস’ করতে ১৩ মার্চের মধ্যে পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। যদিও কতজনকে ছাঁটাই করতে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এরই মধ্যে দেশজুড়ে চার ডজন সংস্থার তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ডিওজিই। ফেডারেল সরকারের খরচ কমাতে বিলুপ্তি ঘোষণা করা হতে পারে এ সংস্থাগুলোর।
এখনো ছাঁটাইয়ের নজর শিক্ষানবিশ কর্মীদের দিকে, যারা অল্প সময় কাজ করছেন এবং চাকরির নিরাপত্তা কম। পরের দফায় বিপুলসংখ্যক জ্যেষ্ঠ সিভিল কর্মচারীদের নিশানা করা হবে।